বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন
ডাকসু প্যানেল গঠনে শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপ
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—ডাকসু—নির্বাচনকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাস এখন এক অনন্য রাজনৈতিক উচ্ছ্বাসে ভাসছে। ছোট-বড় সব ছাত্র সংগঠনই নিজেদের কৌশল সাজাতে ব্যস্ত, আর সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নীরবে-নিভৃতে প্যানেল গোছানোর কাজে মগ্ন। ছোট সংগঠনগুলোর মধ্যে চলছে জোট গঠন, পদের বিনিময়ে দরকষাকষি ও শেষ মুহূর্তের কৌশল ঠিক করা। অন্যদিকে বড় সংগঠনগুলো জোটে না গেলেও শীর্ষ পদে কাকে বসানো হবে তা নিয়ে গোপন বৈঠক, টানা আলোচনার মধ্য দিয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে। সব মিলিয়ে এবারের ডাকসুতে অন্তত সাতটি প্যানেল ভোটযুদ্ধে নামতে পারে, পাশাপাশি কিছু শীর্ষ পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে এখন পর্যন্ত একটি ছাড়া কোনো সংগঠনই পুরো প্যানেল প্রকাশ করেনি।
সম্ভাব্য সাতটি প্যানেলের তালিকায় রয়েছে—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস), ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট, ‘ডাকসু ফর চেঞ্জ’ এবং একটি স্বতন্ত্র প্যানেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল এখনো প্যানেল চূড়ান্ত করতে পারেনি। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের কিছু মৌলিক দাবি পূরণ করেনি, যদিও নির্বাচনকে তারা ইতিবাচকভাবেই দেখছে। অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, ‘ক্লিন ইমেজের’ নেতাদের প্রার্থী করার কথা ভাবছে ছাত্রদল এবং এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শ নেওয়া হতে পারে। তাদের প্যানেল হয়তো ২০০৯–১০ ও ২০১১–১২ সেশন থেকে ভিপি, আর ২০১৪–১৭ সেশন থেকে জিএস ও এজিএস দিতে পারে; অথবা ২০১৪–১৭ সেশন থেকেই সব শীর্ষ পদে প্রার্থী আনতে পারে।
বাগছাসের প্যানেলে ভিপি পদে থাকবেন ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের, আর জিএস পদে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার। বাকি পদে প্রার্থী ঠিক করতে তাদের অভ্যন্তরীণ বৈঠক চলছে এবং দুই-এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে। ইসলামী ছাত্রশিবিরও শীর্ষ পদে শক্তিশালী নাম ভাবছে—কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম এবং ঢাবি শাখা সভাপতি এস এম ফরহাদ বা সেক্রেটারি মহিউদ্দিন খান। তাদের প্যানেলে ছাত্রী শাখার প্রতিনিধিও থাকতে পারেন।
অন্যদিকে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ইতিমধ্যেই পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে—ভিপি পদে ইয়াছিন আরাফাত, জিএস পদে খায়রুল আহসান মারজান ও এজিএস পদে সাইফ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। ‘ডাকসু ফর চেঞ্জ’ প্যানেল গঠন করছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা—ভিপি পদে তিনি নিজে, আর জিএস পদে রাকিবুল ইসলাম লড়বেন। পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো আসেনি।
বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর জোট গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটেও চলছে শেষ মুহূর্তের আলোচনার ঝড়। সম্ভাব্য শীর্ষ প্রার্থী তালিকায় আছেন—ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক। কে কোন পদে থাকবেন তা এখনও গোপন রাখা হয়েছে।
এদিকে সাবেক ছাত্র ফেডারেশন নেত্রী ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে আসছে একটি স্বতন্ত্র প্যানেল ‘শিক্ষার্থী ঐক্য’। এতে শীর্ষ পদে থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম হোসেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৪২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র নিয়েছেন—যার মধ্যে ভিপি পদে ১০, জিএস পদে ১, এজিএস পদে ২, সম্পাদক পদে ১৮ এবং সদস্য পদে ১১ জন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মনোনয়ন সংগ্রহ চলবে, আর ক্যাম্পাসে নির্বাচনী উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।